একটানা ভারি বর্ষণে পিরোজপুরের স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তীব্র দাবদাহের পর এই বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসার কথা থাকলেও অতিবৃষ্টির কারণে তা এখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জেলার দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষি শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়ে তীব্র সংকটে দিনাতিপাত করছেন।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, অবিরাম বৃষ্টির তোড়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও বসতবাড়ির আঙিনায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম বিঘœ ঘটছে। খাল-বিল ও নদ-নদীর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।
রিকশাচালক মোবারক ফকির নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সংসারে চারজন সদস্য, আমি একাই উপার্জন করি। বৃষ্টির কারণে এখন প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকার বেশি আয় হয় না। যাত্রী নেই বললেই চলে, এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
একই ধরনের কষ্টের কথা জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাবের আলী। তিনি জানান, কৃষিশ্রমিকদের কাজ নেই, রিকশাচালকদের আয় কমে গেছে। সব মিলিয়ে নি¤œ আয়ের মানুষগুলো এখন দিশেহারা। তারা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, আমন ধানের জন্য এই বৃষ্টি কিছুটা উপকারী হলেও যেসব নিচু জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকবে সেখানে সবজি, বীজতলা ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং মাছের ঘের ও পুকুরের বাঁধ নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন কুমার বলেন, দীর্ঘ সাত-আট দিনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। কৃষিজমি ও মাছের খামারে পানি ঢুকে পড়ায় চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নি¤œ আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন