একসময় অন্যের বাড়িতে নকশি সিলিং তৈরির কাজ করে সংসার চালাতেন হাজিমুল ইসলাম। আজ সেই হাজিমুলের হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব বাঁশের হস্তশিল্প পৌঁছে যাচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনখুলি ডাঙ্গাপাড়া এলাকার এই উদ্যোক্তার সফলতার গল্প এখন অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা।
পাঁচ বছর আগে সামান্য পুঁজি নিয়ে বাঁশের মগ তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন হাজিমুল। ইউটিউব দেখে নিজেই পণ্য তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেন তিনি। বর্তমানে তার কারখানায় ঝুড়ি, লন্ড্রি বাস্কেট, ফলের ট্রে, ফুলের টব, ল্যাম্পশেড ও ঘর সাজানোর নান্দনিক শোপিস তৈরি হচ্ছে। দেশের গ-ি পেরিয়ে এসব পণ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক সমাদৃত।
হাজিমুলের কারখানায় বর্তমানে প্রায় ২০ জন দক্ষ নারী-পুরুষ কাজ করছেন। কারখানার কর্মী আঁকলিমা, মমতা ও সাদিয়া জানান, আগে তাদের নির্দিষ্ট কোনো আয় ছিল না। এখন এখানে কাজ করে তারা সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে পারছেন। আব্দুল করিম নামের এক কর্মী বলেন, আমাদের হাতের তৈরি পণ্য বিদেশে যাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
উদ্যোক্তা হাজিমুল ইসলাম জানান, শুরুর দিকে অভাব ও পুঁজির সংকটে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে পণ্যের গুণগত মান ও নান্দনিক ডিজাইনের কারণে ধীরে ধীরে চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে সৈয়দপুর ও ঢাকার রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে তার পণ্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পেলে আমি উৎপাদনের পরিধি আরও বাড়াতে পারব, যা স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
হাজিমুল ইসলামের এই উদ্যোগ কেবল তার নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সৈয়দপুরের এই কুটির শিল্প বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সৈয়দপুর বিসিক নগরীর সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, হাজিমুল আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং তাকে বিনাসুদে ব্যাংক ঋণের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইউএনও ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা বলেন, হাজিমুলের সাফল্যের কথা আমরা জানতে পেরেছি। খুব দ্রুতই সরেজমিন তার কারখানা পরিদর্শন করে বাঁশের পণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

