ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ঢাকার সাভার

সাত বছরেও অসম্পূর্ণ সেতু

জহিরুল ইসলাম লিটন, সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০২:৩৮ এএম

সাভারের আশুলিয়ায় বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘নলাম সেতু’ যেন এখন উন্নয়নের বদলে অবহেলা, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার এক নির্মম উদাহরণ। একটি সেতু বদলে দিতে পারত হাজারো মানুষের জীবনমান, কমিয়ে আনতে পারত বছরের পর বছর ধরে চলা যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ। কিন্তু নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন আজও অধরা। বর্তমানে এটি কেবল একটি অসম্পূর্ণ কংক্রিটের কাঠামো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে বংশী নদীর দুই তীরের অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় বংশী নদীর তীরে অবস্থিত মাইঝাল, পাইছাল, উনাইল, ধামসোনা ও গোপালবাড়ীসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের কাছে নলাম সেতুটি ছিল উন্নত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক মুক্তির বড় স্বপ্ন। ২০১৯ সালের ২১ জুলাই ৮২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের এই সেতুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর তদারকির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

বর্তমানে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি খেয়া নৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষাকালে নদী উত্তাল থাকলে খেয়া নৌকায় পারাপার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কোনো অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়। স্ট্রেচারে করে রোগী নিয়ে নৌকায় ওঠার সময় সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা সবসময়ই থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে একটি নৌকার অপেক্ষায় থাকাটাই জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কহিনুর অ্যান্ড খোশেদা এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছুদিন কাজ চলার পর মাসের পর মাস কোনো কর্মী বা যন্ত্রপাতির দেখা মেলে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদারকির অভাব এবং অদৃশ্য কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন প্রকল্পটি প্রায় অচল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে সরকারি অর্থের চরম অপচয় হচ্ছে।

সম্প্রতি সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা ও ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাইনি। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ না করা হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মিনারুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যাদেশ বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।