ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

শেরপুরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দী দুই শতাধিক পরিবার

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে চেল্লাখালি নদীর একটি সেতু ভেসে গেছে এবং কলসপাড় ও যোগানীয়া ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালি নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। একই সঙ্গে ভোগাই ও মহারশী নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। এতে ঝিনাইগাতি সদর বাজারে পানি ঢুকে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আকস্মিক বন্যায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মাছের ঘের ভেসে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কলসপাড় ইউনিয়নের আরও প্রায় ৩০০টি মাছের ঘের এবং ২০টির বেশি মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রীষ্মকালীন সবজির খেত এবং সদ্য রোপণ করা আমনের বীজতলা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাদের দাবি, নদীগুলোর নাব্যতা সংকট এবং স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে চারটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ ও মাছ চাষের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য চাল ও শুকনো খাবারসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।