‘কৌতূহলে মাদক নিলে জীবন হয়ে অর্থহীন, পরিবারে নেমে আসবে পূর্ণশূন্যতা সীমাহীন। মাদক সেবন বন্ধ করুন, সুশীল সমাজ গড়ে তুলুন, মাদককে না বলুন।’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কোনাবাড়ী এম. এম. মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে সুধীজন কোনাবাড়ী মেট্রো থানা। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মনজুরুল করিম রনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবারের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনগত অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সমাজের প্রতিটি মানুষকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বক্তারা সবাইকে ‘মাদককে না বলুন’—এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

