গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ব্যস্ততম মাওনা বাজার-ধনুয়া সড়কটি এখন জনসাধারণের চলাচলের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের বড় বড় গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির কর্দমাক্ত পানি আর খানাখন্দের কারণে এটি এখন আর স্বাভাবিক সড়ক হিসেবে নেই। শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত এই এলাকার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে যাওয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম বেহাল হয়ে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ফলে শিল্পকারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অবস্থা কতটা শোচনীয়। মাওনা বাজার থেকে মেম্বার বাড়ি মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশজুড়ে যেন কাদার রাজত্ব চলছে। খানবাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পিচ ঢালাই ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি ছোটখাটো ডোবায় রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে ড্রেনেজব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, যা গর্তের গভীরতা ও ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি শিল্পকারখানার অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক যাতায়াত করেন। এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির ক্ষত আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, খানাখন্দে পূর্ণ এই সড়কটি এখন ব্যাবসায়িক কর্মকা- ও যাতায়াতের জন্য বড় বাধা। আমাদের চোখের সামনে প্রায়ই অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টে গিয়ে মানুষ আহত হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক মইনুল হক বলেন, সড়কের মাঝখানে থাকা কাদার গর্তগুলো আন্দাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত দুই দিনে আমার অটোরিকশা দুবার উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হয়েছেন।
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
শামিনুর রহমান নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, রাস্তাটি এখন আর চলার উপযোগী নেই। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি এখন কাদামাখা ডোবায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া গভীর গর্তের কারণে অটোরিকশাগুলো প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। আমি নিজে দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না কারণ যানবাহনগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না। আমাদের একটাই দাবিÑ কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং এই মরণফাঁদ থেকে আমাদের মুক্তি দেয়।
শিল্পাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারে এমন দায়সারা মনোভাব সাধারণ মানুষকে চরম হতাশ করেছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার শঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হোসেন বলেন, সড়কের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে আপাতত সংস্কারের জন্য আমার হাতে কোনো বাজেট নেই। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

