কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নাজমুল মিয়া নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসনের নামে বেধড়ক মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়সুল আলমের বিরুদ্ধে। ২১ জুলাই শ্রীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর নানা আমিনুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও মেনে নিতে পারেনি নাজমুলের দূর সম্পর্কের মামা স্বাধীন মিয়া। এ ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার নাজমুলের মামা স্বাধীন মিয়াসহ কয়েকজন মিলে শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী নাজমুলের মামা স্বাধীন মিয়া ও নানা আমিনুল ইসলামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে থানায় এজাহার দিয়েছেন শিক্ষক ফয়সুল আলম ও অপর দিকে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা। জানা যায়, শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল। গত ২১ জুলাই ইংরেজি ক্লাশ চলাকালীন সময়ে নাজমুল উৎশৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে মারধর করেন শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়সুল আলম। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী নাজমুলের নানা আমিনুল ইসলামকে স্কুলে ডেকে এনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সামনে বিষয়টি মীমাংসা করেন প্রধান শিক্ষক। ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে শিক্ষক ফয়সুল আলম বিদ্যালয় থেকে তার নিজ বাসায় শহরের গাছতলা ঘাট এলাকায় যাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীর মামাসহ কয়েকজন মিলে ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে।
শিক্ষার্থী নাজমুল জানায়, চুল বড় হওয়ায় স্যার আমাকে শাসনের নামে চড় থাপ্পড় ও স্টিলের স্কেল দিয়ে বেধরক মারধর করেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করার ফলে এখনো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি। আমিসহ স্যার অনেক শিক্ষার্থীর সাথেই এমন আচরণ করে থাকেন। শিক্ষার্থীর নানা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার নাতিকে বেধরক মারধর করায় ওর ক্ষতচিহ্ন দেখে ওর মামা অনেক কষ্ট পেয়েছে। এভাবে মারধর না করে অভিভাবকদের জানাতেও পারতো। ভাগিনার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে রাগান্বিত হয়ে ওই শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনাটি চরম বেয়াদবি করেছে নাজমুলের মামা। এটা ও মোটেই ঠিক করেনি। এ ঘটনার বিচার হোক এটা আমিও চাই। কিন্তু আমি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে শিক্ষক ফয়সুল আলম চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের বলেন আপনাদের প্রয়োজন হলে আমার অফিসে আসেন। এ বিষয়ে ওসি লিমন বোস বলেন, শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি৷ তাদেরও লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

