বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরে অংশ নিয়েই সেমিফাইনাল খেলেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হয়েছিল তৃতীয়। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপে খেলেছিল সর্বোচ্চ কোয়ার্টার ফাইনাল। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের একক আয়োজক হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিল দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত। ২০২৬ সালে এবার তারা যৌথ আয়োজক। স্বাভাবিকভাবেই নিজ দেশের দর্শকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের ওপর প্রত্যাশার মাত্রাটা অনেক বেশি। সর্বোচ্চ সাফল্য না আসুক, দলটি অনেক দূর যাবে, সেই প্রত্যাশা সবার।
স্বাগতিক দর্শকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই ম্যাচ শেষেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে মওরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্ব তথা রাউন্ড অব-৩২ নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশগুলো প্রায়ই বাড়তি সুবিধা পায়Ñ পরিচিত পরিবেশ, দর্শক সমর্থন এবং ভ্রমণক্লান্তির অভাব। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বিষয়টা তেমন নয়। তাদের খেলায় দেখা যাচ্ছে পরিকল্পনা, গতি এবং আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়।
বিশেষ করে আক্রমণভাগের ধার এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে তারা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪ গোল এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল দেখিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর মতো মানসিক প্রস্তুতিও রয়েছে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেকেই ফেবারিটের তালিকায় রাখেনি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল কিংবা ইংল্যান্ড। কিন্তু প্রথম সপ্তাহ শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নামও সেই তালিকায় জুড়ে দিতে পেরেছে।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে শেষ গ্রুপ ম্যাচ তুরস্কের বিপক্ষে। ফলাফলের চাপ না থাকলেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জয় পেলে শুধু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথই মসৃণ হবে না, নকআউটের আগে আত্মবিশ্বাসও পৌঁছে যাবে নতুন উচ্চতায়।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে স্বাগতিকদের নিয়ে অনেক রূপকথা লেখা হয়েছে। ২০২৬ সালে সেই তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করার স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। আর আপাতত তাদের বার্তা একটাইÑ এই বিশ্বকাপে আমেরিকাকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই।

