নড়াইল সদর উপজেলার আলোচিত সেই মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বদলির আদেশ দিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বদলির আদেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান আবু রায়হানের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, নড়াইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের পরবর্তী কর্মস্থল খুলনার তেরখাদায়। তিনি সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করবেন। কর্মকর্তার কাছে রক্ষিত সব দায়িত্বভার কালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে আগামী বুধবারের (৮ জুলাই) মধ্যে পরবর্তী কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় আদেশে।
এর আগে, গত মাসের ২৯ জুন ‘অফিসে ঢুকে মৎস্য কর্মকর্তাকে পেটানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে’ এবং ৩০ জুন ‘মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেই ছাত্রদল নেতাকে পাল্টা মারধরের অভিযোগ’ শিরোনামে পরপর দুটি সংবাদ প্রচারিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি ছুটিতে ছিলেন। চলতি মাসের ২ তারিখ নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বদলির আদেশ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। সোমবার (৬ জুলাই) তিনি খুলনার তেরখাদায় যোগদান করেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২৮ জুন) রাতে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধাদান ও কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা আত্মসাৎ, মারধর ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা জিসানুর রহমান। প্রদর্শনী বরাদ্দের নামে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা ও ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে, মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বিরুদ্ধে আনা ওই ছাত্রদল নেতার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন