× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:০৪ এএম

কোকো পিটে সবুজ বিপ্লব, মাটি ছাড়া চারা উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:০৪ এএম

কৃষি উদ্যোক্তা আবু জাফর। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কৃষি উদ্যোক্তা আবু জাফর। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কৃষিতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য উদ্ভাবন। কোকো পিট ব্যবহার করে মাটি ছাড়া পলিনেট হাউসে ট্রেতে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন সদর ইউনিয়নের আরজবেগী গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা আবু জাফর চৌকিদার।

বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। জমিতে পানি জমে থাকায় চারা উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবিরাম বর্ষণে অনেক সময় বপন করা চারাই নষ্ট হয়ে যায়।

অথচ বছরজুড়ে সবজি, ফুল ও ফল চাষের জন্য প্রয়োজন উন্নতমানের চারা। এই বাস্তবতা সামনে রেখে আবু জাফর চৌকিদার কোকো পিট পদ্ধতিতে মাটি ছাড়া পলিনেট হাউসে চারা উৎপাদন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে তিনি এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার পলিনেট হাউসে বোম্বাই মরিচ, দেশি মরিচ, বারোমাসি ফুল ও বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন হচ্ছে।

শুধু একটি পলিনেট হাউসেই প্রায় দুই হাজার সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদন করে তিনি উপজেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।

এ পদ্ধতিতে নারিকেলের ছোবড়া বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভিজিয়ে কোকো পিট তৈরি করা হয়। এরপর ট্রেতে বীজ বপন করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চারা গজায়। এতে মাটির প্রয়োজন হয় না। ফলে মাটিবাহিত রোগ, কীটপতঙ্গ ও ভাইরাসজনিত আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। পাশাপাশি প্রবল বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও তীব্র তাপদাহ থেকেও চারা নিরাপদ থাকে।

কৃষি উদ্যোক্তা আবু জাফর চৌকিদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে কৃষি ও কৃষকের জীবন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। পলিনেট ব্যবহারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন শুধু ক্ষতি কমাচ্ছে না, কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী করছে।

আগে উপজেলার কৃষকরা চারার চাহিদা মেটাতে দেশের অন্য জেলা থেকে চারা আনতে হতো। এতে খরচ ও সময় দুটোই বেড়ে যেত। এখন স্থানীয়ভাবেই চাহিদা পূরণ হওয়ায় খরচ কমছে এবং লাভের সম্ভাবনা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, দশমিনায় প্রথমবার কোকো পিট পদ্ধতিতে মাটি ছাড়া পলিনেট হাউসে চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাও সারাবছর মানসম্মত চারা উৎপাদন করতে পারবেন। এটি কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

প্রবল বর্ষণ, জলাবদ্ধতা, কীটপতঙ্গ ও ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় কোকো পিটে মাটি ছাড়া পলিনেট পদ্ধতি দশমিনার কৃষিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলবে।

Link copied!