× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম

অনিয়মে রাজি না হওয়ায় ভেন্ডারদের হাতে সাব রেজিস্ট্রারের লাঞ্ছিতের অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অবৈধভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভেন্ডারদের হাতে সাব রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তারেক মাহমুদের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে সাব রেজিস্ট্রার অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষসহ শতাধিক সেবাগ্রহীতা দলিল সম্পাদন না করে ফিরে যেতে হয়।

জানা গেছে, মনোহরগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার তারেক মাহমুদ গত দুই দিন ধরে চৌদ্দগ্রামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার দুপুরে অফিসে উপস্থিত ভেন্ডাররা আগের সাব রেজিস্ট্রারের দোহাই দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই আইনবহির্ভূতভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এদের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম দলিল লিখক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ শাহীন ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কাউছার আহমেদের নাম উল্লেখযোগ্য।

সাব রেজিস্ট্রার তারেক মাহমুদ আইনের বাইরে কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ভেন্ডাররা। একপর্যায়ে তারা তাকে ধমক দিয়ে চেয়ার থেকে নামিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসে উপস্থিত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও কেউ প্রতিবাদ করেননি।

সাব রেজিস্ট্রার চলে যাওয়ায় দিনভর দলিল রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মাওলানা নেছার উল্লাহ বলেন, ‘নানার বাড়ির সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির কবলা নিতে আত্মীয়স্বজন নিয়ে অনেক কষ্ট করে এসেছিলাম। কিন্তু ভেন্ডারদের সঙ্গে ঝামেলার কারণে সাব রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল করা হলো না। সবাইকে নিয়ে এখন বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা এলাকার শাহ আলম বলেন, ‘ক্রয় করা জমির কবলা নিতে এসেছিলাম। কিন্তু সাব রেজিস্ট্রার ও ভেন্ডারদের দ্বন্দ্বে অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ না করেই চট্টগ্রাম ফিরে যাচ্ছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে স্ট্যাম্প ভেন্ডার কাউছার আহমেদ বলেন, ‘সাব রেজিস্ট্রার কাগজপত্র নিয়ে অযথা ঝামেলা করেছেন। তিনি নিজেই চলে গেছেন। আমার পক্ষ থেকে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়নি।’

চৌদ্দগ্রাম দলিল লিখক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ শাহীন বলেন, ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে সাব-কবলা দলিল নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। আগের সাব রেজিস্ট্রার এসব দলিল করতেন। কিন্তু তারেক মাহমুদ আইন দেখিয়ে করতে রাজি হননি। বরং তিনি আর্থিক কিছু চেয়েছিলেন, না দেওয়ায় দলিল না করেই চলে গেছেন।’

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্ট্রার তারেক মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনাটি অফিসিয়ালি দেখা হবে।’

এদিকে, সোমবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল হক চৌধুরী জানান, সাব রেজিস্ট্রার তারেক মাহমুদ মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই চৌদ্দগ্রামে একটি সংঘবদ্ধ দলিল লেখক ও ভেন্ডার চক্র তাদের কথামতো অনিয়মে রাজি না হলে সাব রেজিস্ট্রারদের লাঞ্ছিত করে আসছে। এর আগে সাব রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকেও একইভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।

Link copied!