× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৯:৪৫ পিএম

উত্তরে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডার রোগী

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৯:৪৫ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জনজীবন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে। এর প্রভাব পড়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে। প্রতিদিনই বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা, উপচে পড়ছে শিশু ওয়ার্ড।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি হতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শীতের শুরু থেকেই নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৫০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে শয্যা সংকটের কারণে শিশুদের মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় তারা শীতের প্রভাব বেশি অনুভব করে।

চরের বাসিন্দা ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে শিশু ও বয়স্করা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আসছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা নুরনাহার বেগম জানান, ‘ঠান্ডা বাড়ার পর থেকেই আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। গ্রাম থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তিন বছর বয়সি ছেলে নিশাত ইসলামকে তিন দিন ধরে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখন কিছুটা সুস্থ আছে।’

শুধু শিশুরাই নয়, শীতের তীব্রতায় বয়স্করাও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও বাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন প্রবীণরা। শীতজনিত কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীর চর হরিণচওড়া এলাকার দিনমজুর মমিনুল ইসলাম জানান, তার চার বছরের শিশু সুমাইয়া আক্তার ঠান্ডাজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থ হলে রবিবার বিকেলে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। তার মতো চরের অনেক অভিভাবক তাদের অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘চর থেকে হাসপাতালে আসা আমাদের জন্য কষ্টকর। তবুও সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসতে হচ্ছে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়া ও দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকার কারণে শ্বাসনালিতে সংক্রমণ বাড়ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আদিতমারী উপজেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আজমল হক জানান, শীতকালে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং সর্দি-কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শীত বাড়ায় শিশুরা বেশি অসুস্থ হচ্ছে। হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় ভুগছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে গ্যাস দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, শীতকাল এলেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। শীতজনিত রোগ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু ও বৃদ্ধরা। এসব রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুদের কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গেল কয়েক দিন ধরে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। সকালে ঘন কুয়াশা থাকায় ঠান্ডার প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়। রাতে ঠান্ডার তীব্রতা বেশি থাকছে। ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

Link copied!