দিনাজপুরের বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৪ একর জমিতে রোপিত সরিষা ক্ষেত পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুকুন্দপুর গ্রামের চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে তীর-ধনুক ও ধারাল অস্ত্রসহ পাওয়ার ট্রিলার নিয়ে এসে জোরপূর্বক উক্ত ৪ একর জমির সরিষা ক্ষেত মাড়িয়ে নষ্ট করে এবং জমি চাষ করতে থাকে। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীরা এসে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখায় ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের জোতমাধব গ্রামের রহমত আলী জাকির ও হাবিবুর রহমান পার্শ্ববর্তী মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বেড়াখাই মৌজায় তাদের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫.১২ একর জমি পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে ফসল চাষাবাদ করে আসছে। চলতি রবিশস্য মৌসুমে ৪ একর জমিতে সরিষা রোপণ করা হয়েছে। সবেমাত্র সরিষা বীজ থেকে চারা ফুটে বড় হতে শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান জানান, ‘পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আমাদের জমির দলিল, খাজনা-খারিজ ও মাঠপর্চা সবই আছে। অথচ দক্ষিণ মুকুন্দপুর গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকজন জোরপূর্বক আমাদের জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে। চার একর জমিতে সরিষা চাষে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিপক্ষরা জমি দাবি করলেও জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে না। প্রতিবার ফসল আবাদের সময় তারা এসে গণ্ডগোল সৃষ্টি করে এবং জমির ফসল নষ্ট করে। তিনি জমির ফসল নষ্টের সঠিক বিচার দাবি করেছেন।’
সরিষা ক্ষেত নষ্ট ও হুমকি প্রদানের বিষয়ে হাবিবুর রহমানের ভাই এবং অপর ভুক্তভোগী রহমত আলী জাকির ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে বিবাদী করে বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই. মাজেদ আলী জানান, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ১নং বিবাদী সাঈদ ইবনে সামাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘বেড়াখাই মৌজার উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে উভয়পক্ষের মামলা চলছে। তিনি বলেন, উক্ত জমি তাদের ভোগদখলীয় দাবি অনুযায়ী চাষ করা হয়েছে, এবং ৪ একর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়নি; জমিতে ঘাস গজানোর কারণে ধান চাষের উদ্দেশ্যে তারা জমি চাষ করেছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফসল নষ্ট করা অমানবিক কাজ। এ ধরনের অপকর্ম যারা করে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন