ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মোবাইল ফোন না পেয়ে দুই কিশোরীর আত্মহত্যা 

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০১:২২ এএম
প্রতীকী ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কিশোরী মোবাইল ফোন না পাওয়ায় আত্মহত্যা করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জেলার পৃথক দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।

দুই কিশোরী হলেন- তানিয়া সুলতানা (১৫) ও হুমায়রা আক্তার (১৫)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল ফোন না পাওয়ায় তারা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রথম ঘটনা

সদর থানার চিলারং ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশগড়া গ্রামে তোফায়েল হোসেনের মেয়ে তানিয়া কয়েকদিন ধরেই বাবার কাছে মোবাইল ফোনের জন্য অনুরোধ করছিল। বাবার পেশাগত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তানিয়া নিজের ঘরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে মোবাইল না পাওয়ার অভিমানেই তানিয়ার এই ঘটনা। একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনা

শহরের হাজীপাড়া এলাকায় হুমায়রা আক্তার আত্মহত্যা করে। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় হুমায়রা চাচার বাড়িতে থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনের জন্য দীর্ঘদিন জেদ ধরেছিল হুমায়রা। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাবা তা কিনে দিতে পারেননি। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে চাচাতো ভাই ফেরদৌস হাসান হুমায়রাকে ডাকতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে চেক করেন। এরপর প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা ভেঙে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে কিশোরী।

সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, বাবার ওপর অভিমান করেই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।