বান্দরবানের আলীকদমে ম্রোদের বাগান থেকে ফসল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাফর আলম ওরফে ডাকাত জাফরের নেতৃত্বে ম্রোদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়া এলাকায় থানায় বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে জানালী পাড়ার একটি কলা বাগান থেকে ফসল চুরির সময় নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমকে (৪৫) আটক করা হয়। পরে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর গ্রামবাসীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ডাংয়া ম্রো (৫২), অমর ত্রিপুরা (৫০), প্রেকিক্য ম্রো (২৭), অংসং ম্রো (৩০), কটঙং ম্রো (৫০), ঙানওয়াই ম্রো (২৭), লাংছিং ম্রো (৩০) ও মেনরু ম্রো (৪০)। সবাই জানালী পাড়ার বাসিন্দা।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, জাফর আলম দীর্ঘদিন ধরে কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল ও গৃহপালিত পশু চুরি করছিল। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চেয়ারম্যানের আশ্বাসে সন্ধ্যায় গ্রামবাসীরা থানায় গেলেও জাফর আলম সেখানে আসেননি। পরে ফেরার পথে নয়াপাড়া কবরস্থান এলাকায় জাফর আলমের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ও তার সাঙ্গপাঙ্গসহ প্রায় ৪০ জনের একটি দল টমটমে থাকা গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১৮ জন আহত হন।
আহত প্রেকিক্য ম্রো ও ঙানওয়াই ম্রো জানান, সকালে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশ থানায় ডেকে নিয়ে ফেরার পথে দ্বিতীয় দফা আবারও আমাদের হামলার করেন জাফর ডাকাত ।
এ বিষয়ে জাফর আলমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, হামলায় গুরুতর আহত ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আলীকদম থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ জানান, একাধিক মামলার আসামি জাফর আলম দুই দিন আগে জামিনে বের হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন