কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়ন বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কায়কোবাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির অভিযোগ আনেন। এরপর একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল কায়কোবাদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে কায়কোবাদের পক্ষে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের কাগজপত্র জমার শর্তে বিষয়টি পেন্ডিং রাখা হয়। সোমবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর জামায়াত প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর করে কায়কোবাদের মনোনয়ন বহাল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে মুরাদনগরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, শুরু থেকেই এসব অভিযোগ ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘মুরাদনগরের মানুষ আমাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। তারা পাঁচবার আমাকে নির্বাচিত করেছে। এই ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তাকে সহ্য করতে না পেরে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে।’
কায়কোবাদ আরও বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ষড়যন্ত্রকারীরা কখনোই সফল হতে পারেনি। এবারও তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। সত্যের জয় সবসময় হয় আজ তারই প্রমাণ মিলেছে।’
মুরাদনগরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কায়কোবাদ বলেন, ‘মুরাদনগরের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। এই এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার জীবনের মূল উদ্দেশ্য। অতীতেও আমি মুরাদনগরের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাব।’
এদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আসন্ন নির্বাচনে মুরাদনগরের মানুষ আবারও কায়কোবাদকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন