বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে (সরাইল মিনি স্টেডিয়াম) জনসভায় যোগ দেবেন। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জনসভার স্থলে মঞ্চ থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে মাঠের আশপাশের ভবন ও গাছপালা। সমাবেশ স্থলসহ সরাইল উপজেলা এখন উৎসবমুখর।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলের প্রধান হওয়ার পর এটি তারেক রহমানের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রথম জনসভা। জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজনে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রায় দুই একরের খেলার মাঠ সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব (শ্যামল), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বিএনপি জোট প্রার্থী ও জামিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ পরিদর্শন করেছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
সভার মাঠ দেখতে আসা কয়েকজন সাধারণ মানুষ জানান, ‘মনে হচ্ছে আমরা একটি আনন্দ-উৎসবের মধ্যে আছি। খুব ভালো লাগছে। শুধু টিভিতে দেখেছি, এবার সরাসরি তারেক রহমানকে দেখব।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার তারেক রহমান সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। তিনি বেলা ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদরাসায় বক্তব্য রাখবেন। মহাসড়কের পাশে মৌলভীবাজারের শেরপুরে দুপুর একটায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কুট্টাপাড়া সমাবেশে যোগ দেবেন। সমাবেশে তার বক্তব্য ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন শ্যামল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ‘নির্বাচনি সভার সময় নির্ধারণ করা কঠিন। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করেছি। সবাইকে বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সভা শুরু করার কথা জানিয়েছি। তবে সময় বাড়তেও পারে, সেটিও নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, চার থেকে পাঁচ লাখ লোকের সমাগম হবে। সমাবেশস্থলে মঞ্চে সীমিত লোক থাকবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ জোটের শরিক দলের প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকবেন। চেয়ারম্যান সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন