× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

সাধক কবি মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ১৪৮তম জন্মোৎসব আজ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক কবি মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ১৪৮তম শুভ আবির্ভাব উৎসব আজ। প্রতিবছর বাংলা পঞ্জিকা মতে ১০ মাঘ, ২৪ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে মহর্ষি মনোমোহন দত্তের জন্মোৎসব পালন করা হয়। জন্মোৎসব উপলক্ষে দেশ এবং ভারতের ত্রিপুরা ও কলকাতা থেকে প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত এবং মলয়া প্রেমিকের আগমন ঘটে সাতমোড়া গ্রামে।

মহর্ষি মনোমোহন ছিলেন একজন মরমি সাধক। একাধারে কবি, দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক। মরমি সাধক বা দার্শনিক হিসেবে তার যত না পরিচিতি তার চেয়ে অধিক পরিচিতি ‘মলয়া’ সংগীতের প্রবক্তা হিসেবে।

মহর্ষি মনোমোহন একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে মলয়া (প্রথম খণ্ড), মলয়া (দ্বিতীয় খণ্ড), যোগ-প্রণালি, ময়না বা পাগলের প্রলাপ, খনি, পাথেয়, লীলা রহস্য বা আত্মচরিত, প্রেম পারিজাত, প্রীতিকদম্ব, তপোবন ও উপবন। মহর্ষি মনোমোহন দত্ত মাত্র ৩১ বছর ৮ মাস আয়ুষ্কালে আট শতাধিক গান ও গ্রন্থগুলো রচনা করেন। মহর্ষি মনোমোহন দত্তের গানগুলোর সুরারোপ করেন প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র বড় ভাই আফতাবউদ্দিন খাঁ।

মহর্ষি মনোমোহন দত্তের গুরু ছিলেন মহারাজ আনন্দ স্বামী। মনোমোহন দত্তের কর্মে, ধ্যানে, সাধনে, মননে, চৈতন্যে, জীবনাচরণে মহারাজ আনন্দ স্বামী ছিলেন পথদ্রষ্টা- আদর্শস্বরূপ। মহর্ষি মনোমোহন নিজ গুরুদেবের নামেই আনন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।

মনোমোহন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন তারই গ্রামের এক বৃদ্ধ রামজীবন চক্রবর্তী ব্রাহ্মণের পাঠশালায়। পরবর্তীতে তিনি গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন। তিনি মোক্তারি সম্বন্ধে শিক্ষালাভ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

মহর্ষি মনোমোহন সাধ্বী সৌদামিনী দত্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মনোমোহনের ঔরসে সাধ্বী সৌদামিনীর গর্ভে ১৩১৫ সনের ২৭ আশ্বিন জন্মগ্রহণ করেন একমাত্র পুত্রসন্তান সুধীরচন্দ্র দত্ত।

মনোমোহন দত্তের চিন্তাভাবনার পরিচয় তার গানেই পাওয়া যায়। সমকালীন নানা কুসংস্কার, সামাজিক বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতাসহ বিভিন্ন কুপ্রথার বিরুদ্ধে তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ তুলে ধরেন। তার গানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির অলৌকিক সর্ম্পকও খুব সাবলীলভাবে ফুটে ওঠে। তার গান নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় নাট্যশালাসহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংস্থা বিভিন্ন সময় গবেষণাসহ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারের অনুসারীরা মনোমোহনের ভাবসংগীতের দ্বারা বেশ প্রভাবিত। তার স্বল্প জীবনকালে প্রায় হাজারখানেক গান, কবিতা এবং আধ্যাত্মিক সাধনপ্রণালি এবং মনুষ্যত্ব অর্জনের পথের দিশাসংক্রান্ত গান লিখে গেছেন। মহর্ষি মনোমোহন দত্ত ১৩১৬ বঙ্গাব্দের ২০ আশ্বিন মৃত্যুবরণ করেন।

আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী সাধক, কবি ও মরমি গীতিকার মনোমোহন দত্তের ১৪৮ জন্মোৎসব আনন্দ আশ্রম সাতমোড়ায় পালিত হচ্ছে। ভক্তবৃন্দ ও মলয়া সংগীতপ্রেমীদের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হবে সাতমোড়ার বেলতলা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!