বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব) বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষে সবচেয়ে বড় দুটি দল হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। স্রোত এখন ধানের শীষের দিকে। ধানের শীষকে যদি ভোট দিয়ে এগিয়ে দেন তাহলে আপনার এলাকায় উন্নয়ন হবে। আমার নেতা তারেক রহমান বলেছেন মানুষ যেভাবে পছন্দ করে আমরা সেভাবে চলব।
নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহ প্রার্থী মহসিন মিয়া মধুর সমালোচনা করে বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার ভোটের মেয়র উনি এখন পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ভোটের সংসদ নির্বাচনে। আমি প্রথমে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি, পরে দলের হয়ে এবার নিয়ে তৃতীয়বার ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছি। উনি যে দলের বিরুদ্ধে লাগছে উনার পেছনে কি শহীদ সাব আছে নি? আওয়ামী লীগের লোক কি উনাকে ভোট দিব? কালাপুরের আওয়ামী লীগের প্রত্যেক লোক আমাকে ভোট দিব, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি। কেন দিবে? আমি বলেছি তোমরা আমার ভাই, আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না, আমরা সবাই সাধারণ মানুষ, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। এখন আমি যদি আওয়ামী লীগের মানুষকে কেস (মামলা) দিয়ে দৌড়াই, বিএনপির মানুষকে কেস (মামলা) দিয়ে দৌড়াই, লাভের লাভ কিছু হইব নি? ভোট আরও কমব। এই কারণে যত চেয়ারম্যানরা আছে, যত মেম্বাররা আছে, দু-একজন বাদে সবাই আমাকে মায়া করেছে। কেন? আমি বলেছি, তোমার কেস-মামলা আমি দেখব।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মানুষদের সাথে নির্বাচনি এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাদশা মিয়া কাজল, মশিউর রহমান রিপন, কালাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দিপলু আহমেদ টিক্কাসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তিনি বলেন, ‘এখানের জনপ্রিয় মনির মেম্বারকে বলেছি, এলাকায় আসেন দলের জন্য কাজ করেন, আমাদের ভোট দেওয়া আপনার কেস মামলা আমি দেখব। আমি যদি এই ধরনের রিসক নিতে পারি, দুই দিন পর যদি আমি এমপি হই, আমি কি পারব না এই মামলা উঠাই দিতে? আমি কাউকে হয়রানি করব না।’
হাজি মুজিব আরও বলেন, ‘সবাই জানে, আমি দলমতের ঊর্ধ্বে। আমি বলেছি, আওয়ামী লীগের ভাই যাদের নামে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হয়েছে, দুষ্কৃতকারীরা মামলা দিয়েছে, দায়িত্ব নিছি, এই মামলা আমি তুলে নেব।’
চা বাগান অধ্যুষিত এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮। এর মধ্যে একটি বড় অংশ চা শ্রমিকের। স্বাধীনতার পর থেকেই এই আসনে যতবার আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছে ততবার জয় পেয়েছে। এর পেছনে আছে চা বাগানের ভোট ব্যাংক।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন