× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

পিরোজপুর-১ আসনে অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের লড়াই

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

নদীবিধৌত পিরোজপুরের পলিমাটিতে বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুর-১ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ দিন দিন আরও নাটকীয় হয়ে উঠছে। ভোটারদের মুখে মুখে এখন দুটি নাম—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভিজ্ঞ সংগঠক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পরিচিত মুখ মাসুদ সাঈদী।

বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন এই উপকূলীয় জনপদে। কোনো দলের প্রতি একপাক্ষিক ঝোঁক না দেখিয়ে সাধারণ ভোটাররা এখন ‘উন্নয়ন ও সম্প্রীতি’র মাপকাঠিতে প্রার্থীদের বিচার করছেন।

পিরোজপুর-১ আসনে এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দ্বিমুখী। জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন একজন পোড়খাওয়া রাজনীতিক। তৃণমূল পর্যায়ে তার দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার দক্ষতা তাকে লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

অন্যদিকে, মাসুদ সাঈদী তার পিতা প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং ধর্মীয় রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে তার একটি বিশেষ আবেদন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিভিন্ন স্বাধীন জরিপ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই আসনে লড়াই হবে ‘হাড্ডাহাড্ডি’। কোনো নির্দিষ্ট দল এককভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিরোজপুরের ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পিরোজপুর চিরকালই একটি অনন্য উদাহরণ। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার এমন একজনকে বিজয়ী করতে চান, যিনি অবহেলিত উপকূলীয় এলাকার রাস্তাঘাট ও নদীর বাঁধ সংস্কার করবেন। বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করবেন।

সবশেষে পিরোজপুর-১ আসনে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের রাজনৈতিক পরিপক্কতা এবং মাসুদ সাঈদীর আবেগীয় ও সাংগঠনিক ভিত্তির দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের রায়। উৎসবমুখর পরিবেশে একটি সুন্দর নির্বাচনের প্রতীক্ষায় এখন জেলাবাসী।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!