বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় অন্তত ৫০ জন ভুক্তভোগী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
চুরি হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিমের ব্যবহৃত ফোনও রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বগুড়া শহরে মানুষের ঢল নামে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে লাখো মানুষ জনসভায় যোগ দিতে শহরে আসেন। সন্ধ্যার আগেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে হাজারো মানুষ শহরের সাতমাথা মোড় ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য।
তবে এই বিপুল জনসমাগমের সুযোগে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ভিড়ের মধ্যে অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরি হয়। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টা পর্যন্ত এসব ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় অন্তত ৫০টি জিডি করা হয়েছে।
জনসভায় অংশ নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেন, ভিড়ের মধ্যে অচেনা স্পর্শ অনুভব করলেও কিছু বোঝার আগেই মোবাইল ফোন খোয়া যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় পকেট কিংবা ব্যাগে হাত দিয়ে তারা বুঝতে পারেন, তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমটি আর নেই।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রয়েছেন। কারও ফোনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ছবি, আবার কারও ফোনে জীবিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় তথ্য। ফলে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অনেকে সদর থানায় ফোন হারানোর অভিযোগ জানাতে শুরু করেন।
বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জেবুন্নেছা বেগম জানান, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ৫০টির বেশি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আরও অনেকেই মৌখিকভাবে অভিযোগ জানাতে থানায় আসছেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাতমাথা এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ভুক্তভোগীরা দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এদিকে, ফোন হারানোর ঘটনায় জিডি করতে আসা ব্যবসায়ী রাজেদুর রহমান রাজু বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন রোডে বিআরটিসি মার্কেটের সামনে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে দেখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ সময় ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে পকেটে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম বলেন, ফোন হারানোর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের ফোন উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করে হারানো মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন