ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কর্মবিরতির জেরে চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দিনে ১৬ জন বদলি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করায় আরও ১২ কর্মচারিকে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১৬ জন কর্মচারিকে বদলি করা হলো।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি দাপ্তরিক আদেশে এসব বদলি কার্যকর করে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বদলি ও দমন-পীড়ন করে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন দমন করা যাবে না। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকালও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, সর্বশেষ দফায় অন্তত ১২ জন কর্মচারিকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ চারজনকে বদলি করা হয়। দুই দিনে মোট ১৬ জন কর্মচারি বদলির আদেশ পেয়েছেন।

একটি বদলির আদেশে সাতজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন—পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। এদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে এবং তিনজনকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে।

আরেকটি আদেশে পাঁচজনকে পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং খালাসি মো. রাব্বানী। বদলি বা পদায়নকৃত কর্মস্থলে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবীর (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (নৌ বিভাগ), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) এবং এসএস খালাসি মো. ফরিদুর রহমানকে (প্রকৌশল বিভাগ) বদলি করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজের প্রয়োজনে দুটি পৃথক আদেশে ১২ জনকে বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের চট্টগ্রাম থেকে অন্যত্র বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করছে। এতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আগামীকাল সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, আন্দোলন চলমান থাকবে। বদলি দিয়ে এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।