ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি মাঠ এবার তুলনামূলকভাবে শান্ত বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও এ আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। তার মতে, আওয়ামী লীগের মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচনি উত্তাপ ও চিরাচরিত প্রতিযোগিতার আবহ এবারের নির্বাচনে অনেকটাই অনুপস্থিত।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক ঐক্যের ‘কেটলি’ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মান্না। এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন, শোনেন তাদের অভাব-অভিযোগ এবং শিবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে নির্বাচনের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়। কিন্তু এবার একটি বড় দলের অংশগ্রহণ না থাকায় সেই পুরোনো নির্বাচনি আমেজ নেই। তারপরও আমি চাই, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে এসে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন।’
নির্বাচিত হলে শিবগঞ্জের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান খাতে আমূল পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন নাগরিক ঐক্যের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘শিবগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো সমাধান করাই আমার মূল লক্ষ্য। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আমি একটি আধুনিক ও মানবিক শিবগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই।’
গণসংযোগকালে মান্নার সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ‘কেটলি’ প্রতীকের মিছিল ও পথসভাকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় ভোটাররা প্রার্থীর কাছে এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা, রাস্তাঘাটের সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবার সংকটসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার পাশাপাশি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম (ধানের শীষ) এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা)-সহ আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যদিও এই আসনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে নির্বাচনি মাঠ তুলনামূলক শান্ত, তবে ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এর আগে মিত্রদল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুলেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না, যা এই আসনের নির্বাচনকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে, বড় দল না থাকলেও প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ ও কৌশলের লড়াইয়ে বগুড়া-২ আসনের নির্বাচন ভোটের দিন কী মোড় নেয়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন