ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র সাত দিন দূরে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নাটকীয়ভাবে পাল্টে যাচ্ছে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের রাজনৈতিক চিত্র।
মাঠপর্যায়ে পরিচালিত একাধিক ভোটার মতামত জরিপ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি সরাসরি তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এতে দীর্ঘদিন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল-১ আসনে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় এ আসনে সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের পরিবারই ছিল মূল ফ্যাক্টর। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে ব্যক্তি ও মাঠপর্যায়ের ভূমিকা এবার বড় হয়ে উঠেছে।
বহিষ্কার ও পদত্যাগে বদলে গেল দৃশ্যপট
বিএনপির অভ্যন্তরীণ বহিষ্কার ও পদত্যাগের পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটার জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ জানান, বিগত আন্দোলন-সংগ্রাম ও দুঃসময়ে তারা মো. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানকে পাশে পেয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি বহিষ্কৃত হলেও ভোটারদের কাছে তিনি এখনো গ্রহণযোগ্য।
ভোটারদের ভাষায়, ‘দল অনেক দেখেছি, কিন্তু বিপদে যাকে পাশে পেয়েছি তাকেই এবার ভোট দেব।’
কয়েক হাজার মানুষের মিছিলে নির্বাচনি উত্তাপ
মাঠের বাস্তবতাও জরিপের ফলাফলের সঙ্গে মিলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে প্রায় হাজারের বেশি সমর্থক নিয়ে বিশাল মিছিলসহ গৌরনদী শহরে প্রবেশ করেন বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। শহরের প্রধান সড়কজুড়ে মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় নির্বাচনি উত্তাপ।
বিএনপির ভেতরে অস্থিরতা, প্রকাশ্যে সমর্থন
এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরেও স্পষ্ট অস্থিরতার চিত্র ফুটে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, এ আসনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী হাফেজ মো. কামরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদীর প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজের প্রত্যাশা ও আদর্শিক রাজনীতির টানে তরুণরা এসব প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। মাঠপর্যায়ে আলোচনা তুলনামূলক কম হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে।
সেরনিয়াবাত সেকেন্দারের (সাইকেল প্রতীক) প্রচারণায় তেমন গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, সমন্বয়ের অভাব, মাঠে নিষ্ক্রিয়তা ও নেতৃত্বের দুর্বলতায় প্রচারণা ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
প্রার্থীদের বক্তব্য
ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বরিশাল-১ আসনে ধানের শীষের প্রতি জনগণের ভালোবাসা আজীবন থাকবে। ইনশাআল্লাহ, বিজয় হবে ধানের শীষ প্রতীকের।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ কামরুল ইসলাম বলেন,ইনশাআল্লাহ, আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবো। সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে।
ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূলের কর্মী ও ভোটারদের ভালোবাসাই আমার শক্তি। ইনশাআল্লাহ, বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
শেষ মুহূর্তে বড় চমকের আভাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যগতভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্য পরিচিত বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে এবার নির্বাচনের মূল লড়াই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের চমক দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন