কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে ভৈরবের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ভোটের সরঞ্জাম।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চলছে ভোটার সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম। উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম থেকে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ব্যালট পেপার, গণভোটের ব্যালট, অমোচনীয় কালিসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম।
আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে ভোটের সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এসব নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলছে বিশেষ নজরদারি। পৌর শহরের ও ইউনিয়নগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ভৈরব উপজেলার ৮৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার বলেন, বডি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিশেষ কেন্দ্রে থাকবে বিশেষ নজরদারি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আইন শৃঙ্খলার এস্কর্টের মাধ্যমে ভৈরবে ৮৬টি কেন্দ্রে ভোটার সরঞ্জাম পৌঁছানো হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় কো-অর্ডিনেটর সেল বা আর্মি ক্যাম্প, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে টিম গঠন করা হয়েছে। ভৈরবে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন দায়িত্বরত প্রশাসনের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ জন প্রশাসনের লোকবল রাখা হবে। আর্মির ৩টি টিমের মধ্যে ১টি টিম রিজার্ভ, আনসার সদস্যদের ২টি টিম, র্যাবের ১টি টিমসহ পুলিশের ৪টি টিম টহলে থাকবে। ভৈরব উপজেলায় ৪ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনটা ভিন্ন যেহেতু পোস্টাল ব্যালটের বিষয় রয়েছে। আমরা কেন্দ্রভিত্তিক যে ফলাফল পাব ১৩ তারিখ সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফায়জুল ইসলাম বলেন, এবার নির্বাচনটি এ দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর করার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি সমন্বয়ের মাধ্যমে ভৈরবে প্রতিটি কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যমেরা স্থাপনের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া ভৈরবে এটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভৈরবে মোট ৮৬টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন