× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

মডেল শৈলকুপা গড়ার প্রত্যয়

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের নির্বাচনে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। মডেল শৈলকুপা গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামানকে বরণ করে নিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ এস এম মতিউর রহমান।

জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শৈলকুপা আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সরকারের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান গাড়িবহর নিয়ে ছুটে যান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এ এস এম মতিউর রহমানের বাড়িতে। সেখানে পৌঁছে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় পরাজিত প্রার্থী এ এস এম মতিউর রহমান ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বরণ করে নেন। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু শৈলকুপার উন্নয়নই সকলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান এ সময় বলেন, শৈলকুপাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচন শেষ, এখন সময় উন্নয়নের রাজনীতি করার। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে আমার মূল লক্ষ্য।'

এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, শৈলকুপা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজনের আলোচনায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা আশা করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একসঙ্গে কাজ করলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, শৈলকুপার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কৃষি খাত সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তারা মনে করছেন, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ অনুসরণ করা হলে জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা এটিকে শৈলকুপার রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতামূলক মনোভাব অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।

শৈলকুপার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে শৈলকুপা সত্যিই একটি মডেল উপজেলায় পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!