লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম এলাকায় প্রথমবারের মতো মসলা জাতের ফসল ‘মৌরি চাষ’ শুরু হয়েছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও মসলা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘মসলা উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে সংগ্রহ করা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বারি মৌরি-২ জাতের বীজ ব্যবহার করে আগ্রহী কৃষকদের মাধ্যমে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে মৌরি চাষ করছেন।
মৌরি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় মসলা ফসল। এটি মসলা, মুখশুদ্ধি ও ওষুধি উপাদান হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ভর্তা, তরকারি, আচার ও মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
মৌরি চাষি মোস্তফা কামাল বলেন, কম পানি প্রয়োজন। রোগবালাই তুলনামূলক কম এবং বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল হওয়ায় এ ফসলটি অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভজনক হওয়ায় চাষ শুরু করেছি।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, দেশে ব্যবহৃত মসলা ফসলের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে মৌরি চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে কৃষক লাভবান হবেন, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, পাটগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মসলা ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
দহগ্রাম-পাটগ্রামে প্রথমবারের মতো মৌরি চাষের এই উদ্যোগ কৃষিতে বহুমুখীকরণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে পাটগ্রামকে একটি সম্ভাবনাময় মসলা উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন