চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামার পর পরিচয়, সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং সবশেষে শুভ পরিণয়। দীর্ঘ আট বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে এবার চীনা বধূ ক্রিস হোয়েকে নিয়ে নিজ গ্রাম মৌলভীবাজারের রাজনগরে ফিরলেন তরুণ ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার সেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ এলাকায় পৌঁছালে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সুকান্ত কুমার সেন রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেনের ছেলে। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে আট বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান চীনে।
সেখানে সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর কিছুদিন চাকরি করেন। তবে মন না টেকায় শুরু করেন আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা।
ব্যবসা সূত্রে পরিচয় হয় সাংহাই প্রদেশের বাসিন্দা ক্রিস হোয়ের সাথে। ক্রিস নিজেও উচ্চশিক্ষিত, তিনি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব একসময় প্রেমে রূপ নেয়। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে চীনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
চীনে আইনি বিয়ে হলেও সুকান্তের ইচ্ছা ছিল নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান করার। এতে পূর্ণ সমর্থন দেন ক্রিস ও তার পরিবার। এই উদ্দেশ্যেই গতকাল হেলিকপ্টারে করে সুকান্ত ও ক্রিস মৌলভীবাজারে পৌঁছান।
সুকান্ত সেন জানান, আমাদের পরিচয় ব্যবসার মাধ্যমে হলেও মন দেওয়া-নেওয়া হয়েছিল অনেক আগে। ক্রিসের আগ্রহেই আমরা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে বিয়ের আয়োজন করছি। আমার পরিবারও তাকে খুব সাদরে গ্রহণ করেছে।
বিদেশি নববধূ আসার খবরে টিকরপাড়া গ্রামে সুকান্তের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ ক্রিস হোয়ে।
সুকান্তের ছোট বোন ঐশী সেন, যিনি বর্তমানে চীনে অধ্যয়নরত, জানান যে তার বৌদি বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতেন এবং এদেশের মানুষের আন্তরিকতায় তিনি অভিভূত।
শুক্রবার ক্রিস হোয়ের বাবা ও চাচা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সেন বাড়িতে এখন চলছে বিয়ের ব্যাপক প্রস্তুতি। ভিনদেশি বধূকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন আনন্দের জোয়ার বইছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন