ময়মনসিংহের গৌরীপুর রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থাপিত ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর বিদ্যালয়ের ভবনে চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়টির বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন মালামাল তছনছ, ভাঙচুর ও চুরি হওয়া কক্ষের ছবি পোস্ট করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রায় ১৮ মাস ধরে গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করা হয়। এর দুই দিন পর শুক্রবার ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ফ্যান, আইপিএস, পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর গৌরীপুর পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী ভবনে প্রবেশ করে কিছু সরঞ্জাম নিয়ে যান।
পরে একদল দুর্বৃত্ত ভবনে ঢুকে একাধিক আলমারি, বৈদ্যুতিক ফ্যান খুলে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেঞ্চ ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলম বদরুল সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এই বিদ্যালয় কেবল ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়; এটি গৌরীপুরের আত্মা, আমাদের শৈশবের স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা। আসুন, আমরা সবাই মিলে এর পাশে দাঁড়াই—ধ্বংস নয়, পুনর্জাগরণের ইতিহাস লিখি।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা জানান, ক্যাম্প স্থাপনের সময় কিছু মালামাল পৌরসভা থেকে দেওয়া হয়েছিল। ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর সেসব মালামাল পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে এসেছেন।
তবে পরবর্তীতে ভাঙচুর বা চুরির বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন