× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

মাংস খাওয়ার জন্য মালিকবিহীন কুকুর শিকার করে তারা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

কুকুর শিকার। ছবি : সংগৃহীত

কুকুর শিকার। ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটিতে মাংস খাওয়ার জন্য মালিকবিহীন কুকুর বেআইনিভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। সম্প্রতি রাঙামাটির লংগদুতে দেখা যায়, অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি কয়েকটি কুকুরকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদে আটক করে নিষ্ঠুরভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অথচ ২০১৯ সালে প্রাণী কল্যাণ আইন অনুসারে মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

লংগদুর বাইট্টাপাড়াসহ আশপাশের এলাকা থেকে ধরা অন্তত ২০টি কুকুরকে মাইনীতে বন বিভাগসংলগ্ন ঘাটে বাধা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলতে দেখা যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাবি করেছেন।

শিকারিদের একজন বলেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন। জবাই করে মাংস খাওয়ার জন্য এসব কুকুর শিকার করা হয়েছে। কাপ্তাই লেকের মাঝে অবস্থিত কাট্টলি বিল হয়ে শিকার করা কুকুরগুলো বরকলের আলাম্বায় পাংখোয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটির বাসিন্দা ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যাদের দেখা গেছে, এরা পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর, এটা ঠিক। কিন্তু তারা হয়তো বিষয়টি না বুঝে এমনটা করেছে। আইন সম্পর্কে তারা হয়তো জানত না। প্রশাসন থেকে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যাতে পরে আর না করে।

এদিকে প্রাণী কল্যাণে কাজ করা ঢাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন এসব কুকুর হত্যা করা বা অপসারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করে। যখন বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া হয়, তা মানবদেহের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইন হয়েছে মূলত জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি রয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য। যে এলাকার কুকুরকে ভ্যাকসিনেশন করা হয়েছে, সে এলাকার কুকুরকে যদি ধরে নিয়ে যায় বা অপসারণ করে, তাহলে ওই জায়গায় একটা গ্যাপ তৈরি হয়।

ফলে অন্য এলাকা ভ্যাকসিনেশন ছাড়া কুকুর ওই এলাকায় চলে আসে। ফলে সেখানে রেভিস আক্রান্ত কুকুর সেখানে চলে আসতে পারে। এই আইনটি সে কারণে করা হয়েছে যাতে কোনো কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করে।

তিনি আরও বলেন, বহুদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে কুকুরের মাংস খাওয়ার একটা প্র্যাকটিস আছে, সেটা এখনো বন্ধ হয়নি। নির্বিচারে কুকুরের মাংস খাওয়া শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতি এমনটি নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি।

কুকুরের মাংস খাওয়ার যে খাদ্যভাস রয়েছে, সচেতনতা তৈরি করে সেটি পরিবর্তন করতে হবে।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর আটকের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্যও বলা হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!