নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙা এলাকায় মো. পল্লব নামের এক যুবক পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত ফল ও শাক-সবজির বাগান। তার বাড়ির আঙিনার ২০ শতাংশ জমিতে তৈরি এই বাগানটি পরিবারকে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানে রয়েছে নানা ধরনের শাক-সবজি ও ফলের গাছ। শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে বিটরুট, গাজর, বালিয়া শাক, ডাঁটা শাক, বাঁধাকপি, থানকুনি শাক, ধুনিয়া শাক, টমেটো, চুঁইঝাল, ওলকপি, বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, পালন শাক, কাটানোটে শাক, পোড়ানোটে শাক, মূলা, রেট ক্যাবেজ, ফুলকপি, সিম, মানকচু, লতিকচু, দস্তারিকচু, ডাঙ্গাইড়কচু, ঘটকচু, পুইশাক, শশা, মরিচ ও ক্যাপসিকাম।
ফলের মধ্যে রয়েছে মালবেরি, রামবুটান, গোলাপজাম, কলা, পেয়ারা, রয়েলফল, আম, আপেলকুল, ঝারালেবু, বাতাবি লেবু। এ ছাড়া বাগানে মসলা জাতীয় গাছ যেমন- দারুচিনি, তেজপাতা ও এলাচও রয়েছে।
উদ্যোক্তা মো. পল্লব বলেন, পরিবারের পুষ্টি সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। তাই ২০০১ সাল থেকে নিজের শ্রমে এই বিষমুক্ত বাগান তৈরি করেছি। প্রতিদিন পরিবারের জন্য প্রয়োজনমতো খাবার সংগ্রহ করি এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত শাক-সবজি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের উপহার হিসেবে দেই। আমি ২৬ বছর ধরে বাজার থেকে কোনো ধরনের শাক-সবজি কিনি না।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার তৈরি করছি এবং এ বাগান থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করছি। যারা নিজের আঙিনা বা ছাদে সামান্য জায়গা ব্যবহার করতে পারেন, তারা নিজে এমন বিষমুক্ত বাগান তৈরি করলে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অর্থের অপচয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে।
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এই কৃষি উদ্যোক্তাকে আমরা সাদুবাদ জানাই। যারা সামান্য জায়গা ব্যবহার করে পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করবেন, তারা শুধু নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পাবেন না, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্যও সহায়ক হবেন। এমন বাগানে উৎপাদিত শাক-সবজি নিরাপদ ও বিষমুক্ত হয়, যা পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
মো. পল্লবের উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সামান্য জমি থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার করে পরিবার ও সম্প্রদায়ের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তার শ্রম ও উদ্যম অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দাঁড়াচ্ছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন