× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

হাসানুজ্জামান হাসান, (কালীগঞ্জ) লালমনিরহাট

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

কালীগঞ্জে প্রাচীন ‘এক কাতার’ মসজিদে এখনো হয় নামাজ

হাসানুজ্জামান হাসান, (কালীগঞ্জ) লালমনিরহাট

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

কালীগঞ্জে প্রাচীন ‘এক কাতার’ মসজিদে এখনো হয় নামাজ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কালীগঞ্জে প্রাচীন ‘এক কাতার’ মসজিদে এখনো হয় নামাজ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের হাজীপাড়ায় অবস্থিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন ‘এক কাতার’ মসজিদ। মসজিদটিতে একটি মাত্র কাতার হওয়ায় এটি ‘এক কাতার’ মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটিতে একত্রে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন মাত্র ১৩ থেকে ১৪ জন মুসল্লি।

ধারণা করা হয়, মসজিদের বাঁ পাশে যে প্রাচীন কবর রয়েছে, সেটি মসজিদটির নির্মাণকারী ব্যক্তির। মসজিদের ডান পাশে রয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের দাহা। দাহাটির দেয়ালের প্রতিটি অংশে দেখা যায় প্রাচীন কারুকার্য। এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৫০০ বছর। তারা মসজিদটির সঠিক বয়স নির্ণয় ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মসজিদটির মুয়াজ্জিন নুরুল হক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারি না, তবে এই মসজিদটি বয়স চার থেকে পাঁচশ বছর হতে পারে। মসজিদের ভেতরে জায়গা অনেক কম, তাই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা বাইরের মাঠে নামাজ আদায় করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মসজিদটির এক জায়গায় সংস্কার করতে গিয়ে কিছু মাছের কাঁটা ও ঝিনুক পাই। তাই আমরা ধারণা করি যে, মসজিদটি নির্মাণে অন্য উপকরণের পাশাপাশি মাছের কাঁটা ও ঝিনুক ব্যবহার করা হয়েছিল। মসজিদ তৈরিতে ব্যবহৃত ইটগুলো আকারে বেশ ছোট। আমাদের এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করেন।’

স্থানীয় এক ব্যক্তি ও মসজিদটির মুসল্লি আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘আমরা ধারণা করি যে মসজিদটির বয়স প্রায় পাঁচশ থেকে ছয়শ বছর। এটি একটি প্রাচীন নিদর্শন হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কেউ এখনো মসজিদটিতে আসেননি। আমাদের এই মসজিদটি প্রাচীন হলেও অবহেলিত। আমরা মসজিদটির সঠিক বয়স নির্ণয় ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করি।’

সিনিয়র সাংবাদিক রেজাউল করিম মানিক বলেন, এটি প্রাচীনতম মসজিদ। প্রতিনিয়ত মসজিদটি একনজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে প্রত্যাশা, তারা এই তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির তথ্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেবেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান নুর আমিন জানান, ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে প্রাচীন এই মসজিদ বানানো হয়। এখনো দেয়ালে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে আগুনের ফুলকির মতো বের হয়। মসজিদের বাঁ পাশে একটি প্রাচীন কবর রয়েছে। ধারণা করা হয়, যে ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেছেন, এটি তারই কবর। যার দেয়ালের প্রতিটি অংশে দেখা যায় প্রাচীন কারুকাজ। এ ছাড়া মসজিদটির সামনে আরও দুটি কবর রয়েছে।

মসজিদটি প্রাচীন স্মৃতি বহন করলেও আজও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কেউই যায়নি সেখানে। তবে মসজিদটি দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসেন প্রতিনিয়ত। লালমনিরহাটে অবস্থিত ইসলাম প্রচারের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি প্রয়োজন বলে মনে করে সচেতন মহল।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!