চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইতালি প্রবাসী নুর ইসলামের বসতঘর থেকে তার মা পারুল বেগম (৬৫)-এর মরদেহ উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত প্রবাসীর স্ত্রী হালিমা বেগম (২৭) ও তার পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে মতলব উত্তর থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হোসাইন সানীব। এ সময় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসামি আশরাফুল ইসলাম মিঠু হাপানিয়া গ্রামের বেপারী বাড়ির জাহাঙ্গীর বেপারীর ছেলে।
সহকারী পুলিশ সুপার জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রবাসীর স্ত্রী হালিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। প্রথমে হালিমা প্রকৃত ঘটনা অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে তা স্বীকার করে।
হালিমা পুলিশকে জানায়, তার সঙ্গে প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক মিঠুর আট মাস আগে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে মিঠু তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি হয়। এর মধ্যে প্রবাসী নুর ইসলামের প্রথম স্ত্রীর ছেলে সোহানের সঙ্গে অনলাইনে ব্যবসা করবে বলে মিঠু ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। একপর্যায়ে সোহান মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
উপায়ান্তর না পেয়ে মিঠু তার টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সোহানের দাদি পারুল বেগমের পরনে থাকা স্বর্ণের কানের দুলের প্রতি নজর দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী হালিমার সহযোগিতায় ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মিঠু ওই ঘরে আসে এবং পারুল বেগমকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে। কানের দুল খোলার সময় তিনি টের পেলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ডাকাতির নাটক সাজাতে হালিমার হাত-পা বেঁধে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মিঠু।
পরদিন দুপুরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হোসাইন সানীব বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। নিহত পারুল বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


-20260301154517.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন