বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ আসনে আবিদুর রহমান সোহেলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
আবিদুর রহমান সোহেল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং বগুড়া শহর শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সদর আসনে তাঁর প্রার্থিতা দলীয়ভাবে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম. আব্দুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল আলম, অফিস সম্পাদক আব্দুল হামিদ বেগ, দাওয়া ও শিক্ষা সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুস ছালাম তুহিন, মিডিয়া সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘বগুড়া সদরের মানুষ বারবার একটি মার্কাকে ভালোবেসে প্রতারিত হয়েছে। তারা এবার আর প্রতারিত হতে চায় না।’
তিনি দাবি করেন, আসন্ন উপনির্বাচনে ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন। জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’কে সামনে রেখে তিনি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও নৈতিক রাজনীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বগুড়া-৬ সদর আসন ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদের এ আসনটি অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দখলে গেলেও প্রতিবারই নির্বাচন ঘিরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান উপনির্বাচনও ব্যতিক্রম নয়- স্থানীয় উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থান ইস্যু সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচার চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উপনির্বাচন শুধু একটি আসনের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করবে না, বরং এটি স্থানীয় রাজনীতির শক্তি-সাম্য, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভোটারদের মনোভাবেরও ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে জামায়াতের মতো দল কীভাবে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তিকে ভোটে রূপান্তর করতে পারে- তা দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, বগুড়া-৬ সদর উপনির্বাচন এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে। মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী দৌড় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে কে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন