ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় যশোরের শার্শা-বেনাপোল অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং তীব্র ভিড় দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদের আশ্বাস দিলেও হুজুগ থামছে না। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকরা ট্যাংকি ফুল করার চেষ্টা করায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেনাপোল ফিলিং স্টেশন, মিলন ফিলিং স্টেশন, তনিমা ফিলিং ও হক ফিলিং স্টেশনগুলোর অনেক পাম্প অর্ধেক বন্ধ রয়েছে। দুই দিনের তেল সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রিপন হোসেন বলেন, দুটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে বাড়ি ফিরব কীভাবে তা বুঝতে পারছি না।
বাইক চালক সিয়াম আহমেদ বলেন, রমজান মাসে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে তেলের জন্য ঘোরাঘুরি করা খুবই কষ্টকর।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত চার দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হয়েছে। চাহিদা এতটাই বেড়ে গেছে যে অনেক পাম্পে সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
তনিমা ফিলিংয়ের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কোম্পানি শুক্রবার ও শনিবার তেল সরবরাহ দেয়নি। রোববার সরবরাহ আসবে। যুদ্ধ চলতে থাকলে ডিজেলের সংকট আরও বাড়বে।
যশোর জেলায় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, মানুষের মধ্যে প্যানিক ও অতিরিক্ত মজুদ করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যারা আগে হাফ বা এক লিটার তেল কিনতেন, এখন তারা ট্যাংকি ফুল করে বা ক্যান-ড্রামে তেল কিনছেন। এতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন