× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

আজান দিলেই মসজিদে আসে সাপ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

পালশা থান্দারপাড়া জামে মসজিদ।  ছবি : সংগৃহীত

পালশা থান্দারপাড়া জামে মসজিদ।  ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদকে ঘিরে ডালপালা মেলছে নানা রহস্য। স্থানীয়দের দাবি, মোগল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা। 

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো, আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় গভীর রাতে বা ফজরের আগে শোনা যায় অজুর পানির শব্দ, যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ অজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এ ঘটনা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আবদুর রহমান।

স্থানীয়দের কাছে ঘটনাগুলো দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে তা বেশ বিস্ময়ের। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনাগুলো তারা বহু বছর ধরেই প্রত্যক্ষ করে আসছেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটা আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।

তিনি বলেন, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয়; মাঝেমধ্যে গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের অজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন কেউ অজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন; আবার কেউ মনে করেন, এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পুরোনো মসজিদটি এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি একনজর দেখতে।

সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদটি আজও বহন করছে ইতিহাস, বিশ্বাস ও রহস্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংস্কার করা হলে এটি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, তেমনি দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!