নাটোরের গুরুদাসপুরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করা হলেও জমিদাতার দুই মেয়েকে চাকরি দেওয়া হয়নি।
উপজেলার নাজিরপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা কমিটির দুর্নীতি ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুই বোন চাকরি পুনর্বহালের দাবি করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুন। এ সময় তাদের পিতা কোবাদ আলী, বদর আলীসহ স্থানীয় মুক্তার আহমেদ ও জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় কোবাদ আলী ও তার ছোটভাই বদর আলীর কাছ থেকে তাদের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কমিটির লোকজন ৩৭ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন।
কমিটির সভাপতি ছিলেন মোবারক হোসেন। এরপর দুই বোনকে ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং তারা নিয়ম মেনে শিক্ষকতা শুরু করেন।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পরিবর্তনের পর ২০১২ সালের ৬ মার্চ বর্তমান প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে নিয়োগ দেখানো হয়।
এরপর ফেরদৌসী ও সুমাইয়াকে মারধর করে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার দাবি জানালেও ফল পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।
স্থানীয় মুক্তার আহমেদ ও জয়নুল আবেদীন জানান, তারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের ষড়যন্ত্রের শিকার।
২০১৮ সালে শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষা অধিদপ্তরে দুই বোনকে বাদ দিয়ে জিয়াউর ও রিতার নামে বেতন প্রদানের তালিকা পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে হাইকোর্ট ও জেলা কোর্টে রিট করে তাদের বেতনের ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম শাহীন বলেন, ভুক্তভোগীদের দাবিই যদি আইনসম্মত হয়, তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা উচিত।
অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগ মিথ্যা। ২০২০ সালে ঢাকা থেকে তদন্ত টিম এসেছিল এবং তখন তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে হেনস্তা করছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব আলী জানান, কোনো পক্ষের নিয়োগের কাগজপত্র তার অফিসে নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিয়া ও রিতাকে বেতন ভাতা প্রদানের চিঠি দিলেও কাগজপত্র না থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেননি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন