আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলো সাজানো হয়েছে নতুন করে। রাঙামাটি হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা রঙিন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা শহরের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোও পর্যটক বরণে প্রস্তুত করা হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতার কারণে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে রাঙামাটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক বরণে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহরের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও কটেজ সাজানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হোটেল কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন হোটেলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্সের কটেজ, পুলিশ পলওয়েল পার্কের কটেজ, সেনাবাহিনীর আরণ্যক পিকনিক স্পট, সাজেক রিসোর্ট কটেজ এবং কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিন পর্যটক সংকটের কারণে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার ৭১৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদের জলরাশি ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। হ্রদের পানিতে নৌভ্রমণ এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করলে রাঙামাটিও ভবিষ্যতে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারতের মেঘালয় কিংবা মালদ্বীপের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটন নির্ভর শহর। ঈদের দিন এবং পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদেও নৌ পুলিশ টহলে থাকবে।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে অবকাঠামো ও বিভিন্ন সেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে এবং ঈদের আগেই শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকে ভ্রমণে আসেননি। রমজান মাসেও পর্যটক কম ছিল। তবে ঈদের পর দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের সেবা দিতে আমরা শতভাগ প্রস্তুত।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন