× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

১৪ দিন ধরে ডিজেল সংকট, বিপাকে কৃষক ও পরিবহন খাত

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় টানা প্রায় ১৪ দিন ধরে ডিজেল তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা। একই সঙ্গে রবি মৌসুমে ফসল মাড়াই এবং ছোট ইঞ্জিনচালিত পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চারটি ডিলার পয়েন্টের মাধ্যমে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সরাসরি ডিজেল তেল সংগ্রহ করেন। অনেকেই এলাকার খুচরা বিক্রেতা বা ফুঁড়ি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেও তেল কিনে থাকেন। এসব ফুঁড়ি ব্যবসায়ীরাও ডিলারদের কাছ থেকেই তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে ডিলাররা কোনো তেল না পাওয়ায় তাদের পয়েন্টেও তেলের মজুদ নেই। ফলে পুরো উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট।

ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকদের সেচ পাম্প চালানো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে স্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। এতে রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল উত্তোলন ও মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তেলের অভাবে ছোট ইঞ্জিনচালিত পরিবহনগুলোও চলাচল করতে পারছে না, ফলে বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজকর্ম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগাতিপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৫৬৮ হ্যাক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ হ্যাক্টর জমিতে সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এ ছাড়া রবি মৌসুমে গম ৫ হাজার ২৯০ হ্যাক্টর, সরিষা ৪৫০ হ্যাক্টর, মসুর ৬৬০ হ্যাক্টর এবং খেসারি ডাল ২৯০ হ্যাক্টর জমির ফসল মাড়াইয়ের কাজও সম্পূর্ণভাবে ডিজেলচালিত স্যালো মেশিনের ওপর নির্ভরশীল।

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের কৃষক মালেক আলী বলেন, ধানের জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে তেল না পাওয়ায় সেচ পাম্প চালাতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে ধানের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা সদরে গিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দূর থেকে তেল কিনে আনা প্রান্তিক কৃষকদের জন্য খুবই কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। সামনে ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম, সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

উপজেলার পৌরসভার মুরাদপুর এলাকার ছোট ইঞ্জিনচালিত গাড়িচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, গাড়ির জন্য তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা সদরের চারটি পাম্প ঘুরে মাত্র এক জায়গা থেকে ২ লিটার তেল পেয়েছি। অনেক সময় খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাও সব জায়গায় পাওয়া যায় না। ফলে অনেক চালকই তেলের অভাবে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

উপজেলার বিহাড়কোল বাজারের তেলের ডিলার মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুর রহমান বলেন, প্রায় ১৪ দিন ধরে ডিজেল ও পেট্রোলবাহী গাড়ি না আসায় গ্রাহকদের তেল দিতে পারছেন না।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভবসিন্ধু রায় বলেন, ডিজেল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি অবগত আছেন।

বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ডিজেল সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!