× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

লালমনিরহাটে রেলের কোয়ার্টারে থাকেন বহিরাগতরা, রাতে বসে মাদকের হাট

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের ৭০০ আবাসিক কোয়ার্টার এখন বেদখল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, জানালা-দরজা নেই, পাকা ছাদ বিধ্বস্ত, ইটের ফাঁকে ফাঁকে আগাছা জন্মেছে। তারপরও কিছু কোয়ার্টারে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন দখলদাররা। রাতে চলে বেআইনি কাজ, বসে মাদকের হাট। দেখে মনে হয় ভুতুড়ে বাড়ি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো ৭০০ আবাসিক কোয়ার্টারের মধ্যে কিছু কোয়ার্টারে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন দখলদাররা। ১৯৩০ সালে লালমনিরহাটে রেলওয়ে কোয়ার্টারগুলো নির্মাণ করা হয়। অধিকাংশ ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, জানালা-দরজা নেই, পাকা ছাদ বিধ্বস্ত, ইটের ফাঁকে ফাঁকে আগাছা- সর্বোপরি কোয়ার্টারগুলো মানুষের বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক কোয়ার্টারে সন্ধ্যা হলেই মাদকের আসর বসে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

একসময়ের রেলের শহর লালমনিরহাট। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য শহরের প্রাণকেন্দ্র স্টোরপাড়া, ড্রাইভারপাড়া, রামকৃষ্ণ মোড়, বাবুপাড়া, সাহেবপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল সহস্রাধিক স্টাফ কোয়ার্টার। প্রায় শত বছর আগে নির্মিত এসব কোয়ার্টার সংস্কারের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে রেল কর্তৃপক্ষের কেউ বসবাস না করলেও প্রায় ৪০ বছর ধরে অবৈধ দখলদাররা অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বসবাস শুরু করেছে।

আবাসিক কোয়ার্টারগুলোতে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মুহুরী, মুদি দোকানদার, বাস-ট্রাকচালক, হেলপার, হকার, এনজিও কর্মী, শ্রমিক ও দিনমজুররা বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছেন। এসব বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এক শ্রেণির রেল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অলিখিতভাবে মাসিক ভাড়া দিয়ে কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস করছেন। এই ভাড়ার টাকা কোনো দিনই সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। এদিকে শহরের বেশির ভাগ এলাকা রেলের আওতায় থাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ছে পৌরসভা। ফলে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলা সদরের বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, পরিত্যক্ত ও বিধ্বস্ত এসব কোয়ার্টারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু অসহায় পরিবার বসবাস করছে। শুধু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই লালমনিরহাট রেলওয়ের অধিকাংশ আবাসিক কোয়ার্টারের এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাটে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৯১০টি আবাসিক কোয়ার্টার থাকলেও প্রায় ৭০০ কোয়ার্টার বেদখলে রয়েছে। পুরোনো ও জীর্ণ অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেগুলোকে এখনো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি।

রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে জেলার সীমানাজুড়ে ১২টি স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনসংলগ্ন আবাসিক কোয়ার্টারগুলো স্টেশনমাস্টারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এগুলোর অধিকাংশই বহিরাগতদের দখলে। লাল রঙের এসব ভবন ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। এখন সেগুলো জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা না থাকায় যে যার মতো করে দখল করে রেখেছে। ধসে পড়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই সেখানে বসবাস করছেন বহিরাগতরা। সেই সঙ্গে চুরি হয়ে যাচ্ছে ভবনের ইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

বহিরাগতদের দখলে থাকা এসব কোয়ার্টারে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কাজের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কোয়ার্টারগুলো এখন সাধারণ মানুষের কাছে মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে অসামাজিক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিরা কোয়ার্টারের ইট, রড, কাঠ, দরজা-জানালা অবাধে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ খোয়া যাচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হক বলেন, ‘রেলের যে পরিত্যক্ত ভবনগুলো রয়েছে, সেগুলোতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছে। ভবনগুলো এতটাই ভঙ্গুর যে, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।’

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খান বলেন, ‘রেলওয়ের জমি ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো দখলমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিধ্বস্ত কোয়ার্টারগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি এসব ভবনের সঠিক তদারকি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে- এটাই প্রত্যাশা।’

Link copied!