চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জলকদর খাল দখল করে পাকা দালান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন খাল দখল করে একাধিক স্থানে ভবন ও দোকান নির্মাণ চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার শেখেরখীল সরকার বাজার ফাঁড়ির মুখ এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি খালের ওপর পাকা ভবন নির্মাণ করছেন।
এছাড়া প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা খাটখালী এলাকায় বাঁধ দখল করে মসজিদের নামে দোকান নির্মাণ করছেন হারুনুর রশিদ চৌধুরী (টিপু মিয়া)।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশির দশকে জলকদর খালের দুই পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। এরপর ধীরে ধীরে খালপাড় দখলের প্রবণতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে খাল দখল করে ভবন, দোকান, বরফ মিল ও ফিশিং ডক নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেখেরখীল এলাকায় খালের ওপর প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট প্রস্থজুড়ে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, খালের পাড় দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ হলেও দেখার কেউ নেই। এতে পরিবেশ ও পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে হারুনুর রশিদ চৌধুরী (টিপু মিয়া) দাবি করেন, জায়গাটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং মসজিদের জন্য দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় আরও অনেকেই একইভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামশেদুল আলম বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, শেখেরখীল এলাকায় খাল দখল করে নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও খাল দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই এবং শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন