মাদারীপুরের শিবচরে তেল সংকট দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক, মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ মানুষ জ্বালানি তেলের জন্য চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিবচরের আব্দুল হাকিম খান (এ এইচ কে) ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকেই তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
সোমবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, তেলের জন্য মোটরসাইকেল আরোহীরা প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সারি ধরে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই রাত থেকেই লাইনে অবস্থান নেন। তীব্র গরম ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
শুধু মোটরসাইকেল আরোহীরাই নন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কৃষকরাও ডিজেল সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকে জানান, জমি চাষ, সেচ ও ইরিগেশন কার্যক্রম চালাতে না পেরে তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। কেউ কেউ রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর ২টা পর্যন্ত তেল পাননি বলে অভিযোগ করেন।
কৃষকদের ভাষ্য, ইরিগেশন মৌসুমে ডিজেল না পাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমের ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, যেসব কৃষকের সেচ পাম্প রয়েছে, তাদের জন্য ফুয়েল কার্ড/অনুমতিপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারেন। তবে বাস্তবে অনেক কৃষক অভিযোগ করছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা অনুমতি থাকলেও পাম্পে গিয়ে সময়মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
সকাল থেকে পাম্প এলাকায় প্রচণ্ড ভিড় ও চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। তবে অতিরিক্ত ভিড় ও মানুষের চাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।
জানা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অনেকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অল্প তেল পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে সকল গ্রাহককে ফুয়েল কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিবচরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে ফুয়েল কার্ড সরবরাহ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ লাইনে শুধু কৃষক বা প্রয়োজনীয় কাজে জ্বালানি নিতে আসা মানুষই নন, হাজার হাজার মোটরসাইকেল আরোহী তরুণও তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিবচরের কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা ও জনজীবনের নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন