গাজীপুরে পুত্রবধূর পরিকল্পনায় শাশুড়িকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পিরুজালী এলাকায় গত ৭ এপ্রিল রাতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আছমা আক্তার নিজ বাড়িতেই খুন হন।
ঘটনার পরদিন সকালে কর্মস্থল থেকে ফিরে এসে নিহতের ছেলে নাজমুল সাকিব ঘরের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে তিনি তার স্ত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় অচেতন পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পাশের কক্ষে গিয়ে মাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো ছিল এবং একটি স্টিলের সিন্দুক ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল খোয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর জয়দেবপুর থানা পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল, শাহনাজ বেগম ও পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মিকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মির পরিকল্পনায় অপর দুই সহযোগীর সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় আছমা আক্তারকে। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুত্রবধূকে বেঁধে রেখে সাজানো হয় নাটকীয় দৃশ্য।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন