× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

লালমোহনের বদরপুর যেনো আরেক জঙ্গল সলিমপুর

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়ন যেনো আরেক জঙ্গল সলিমপুর। বুধবার রাতে মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় কিশোর গ্যাং গ্রুপের হামলার শিকার হয়েছে থানা পুলিশ। এ সময় মামলার বাদীর দুই আত্মীয়কে মারপিট করে গ্রেপ্তার করা দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ। পরে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ওই দুই আসামিকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে কলেজ ছাত্র সালমান (২০) লাঠিয়াল বাজারে তার চাচা আনোয়ার মীরের বাসার সামনে খেলা দেখতে যায়। এসময় প্রতিবেশি জাকির জমাদারের ছেলে ইমন জমাদার এবং স্থানীয় জয়নাল জমাদারের নেতৃত্বে জাহিদ খলিফা, সাকিব জমাদার, রাজিব জমাদার, জহির জমাদার, বাবুল জমাদারসহ এক দল কিশোর গ্যাং গ্রুপের বখাটে যুবক কলেজ ছাত্র সালমানকে কোন কারণ ছাড়াই ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেয়। তার ডাক চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এসে সালমানকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আনে। সেখান থেকে বরিশাল রেফার্ড করা হয়।

এ ঘটনায় সালমানের বাবা বাদল হোসেন মীর বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে লালমোহন থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার পর বুধবার রাতে থানা পুলিশের এসআই জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম আসামি ধরতে যায়। পুলিশ ইমন ও অপর এক আসামিকে আটক করলে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

এক পর্যায়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে মব তৈরি করে গ্রেপ্তার করা দুই আসামিকে কেড়ে নিয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একই সময় আসামি গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করায় মামলার বাদীর বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ভগ্নিপতি ও ভাগিনাকে তুলে নিয়ে বেধরক মারপিট করে। তাদেরকে চোর আখ্যা দিয়ে মব তৈরি করে। পুলিশ বাদীর দুই আত্মীয়কে উদ্ধার করে আসামি রেখে থানায় চলে আসতে বাধ্য হয়।

পরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফয়সাল তালুকদার ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে রাতেই থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ গতকাল তাদের মামলায় আদালতে পাঠিয়ে দেয়। আদালত আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রকে মারপিটের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিলো। পরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে পিছু হটতে বাধ্য হন হামলাকারীরা। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কলেজছাত্র সালমানকে মারপিট করে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনায় হওয়া মামলায় আসামি ধরতে গেলে মব সৃষ্টি করে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ। তারা নিজেদের বিএনপির নেতাকর্মী দাবি করে আসামি ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে দিয়ে যান।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, লালমোহনের বদরপুর ইউনিয়নে কলেজ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেছেন। আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের উপর হামলার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে। পুলিশের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ফয়সাল তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনা জানার পর রাতেই দুই আসামিকে থানা পুলিশের কাছে দিয়ে আসেন। মামলার বাদীর দুই আত্মীয়কে মব সৃষ্টি করে মারপিটের ঘটনা তিনি সকালে জানতে পারেন। বিষয়টি তারা সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!