চৈত্রের বিদায় বেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উৎসবসহ বিভিন্ন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) পালিত হলো চৈত্র সংক্রান্তি।}
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠানমালার মূল পর্ব শুরু হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, আজ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ চৈত্র সংক্রান্তি পালনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত ছিলেন ক্যাম্পাস রঙিনভাবে সাজাতে। কেউ-বা খাবার তৈরিতে ও পসরা সাজাতে ব্যস্ত। আবার কেউ রঙিন কাগজ দিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান সজ্জিত করে তুলছে। কেউ আবার আল্পনা আঁকছেন।
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদিন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আয়োজন করেছিল টেনিস বল দিয়ে স্ট্যাম্পিং, শিক্ষিকা, নারী কর্মকর্তা ও নারী কর্মচারীদের জন্য আয়োজন করেছিল ঝুড়িতে বল (টেনিস বল) নিক্ষেপ। এ সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ নিজেদের মধ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে হাসিঠাট্টা ও আনন্দে মেতে উঠেন।
এছাড়াও বিকাল ৫টায় ঘুড়ি উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসাথে বসন্তের শেষ বাতাসে ঘুড়ি ওড়ানোয় মেতে ওঠেন। মেলায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকম পণ্যের স্টল দেন।
মেলার ৩৯টি স্টল ঘুরে দেখা যায়, কোনো স্টলে বিক্রি হচ্ছে মাটির গহনা, কোথাও মাটির পুতুল, কোথাও-বা কসমেটিক্স, কোথাও পাটজাত পণ্য। আবার কেউ কেউ বসেছেন বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক খাবার নিয়ে, যেমন বগুড়ার দই, শলপের ঘোল, পোড়াবাড়ির চমচম, যশোর জামতলার মিষ্টি। আদিবাসীরা বিক্রি করছেন তাদের পাহাড়ি খাবার।
এদিকে, মাগরিবের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সংগীত বিভাগের আয়োজনে বাউল গান পরিবেশনা করা হয়।
চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২ ও নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাশমি বলেন, চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ, যা আমাদের সংস্কৃতির শিকড়কে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই উৎসব আমাদের মাঝে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। আজকের এই আয়োজন সফল করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা। সবাইকে অনুরোধ করবো, শৃঙ্খলা ও আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশগ্রহণ করুন। চৈত্র সংক্রান্তির এই শুভক্ষণে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও নববর্ষের অগ্রিম অভিনন্দন।

