× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

তানোরে বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে বিলের বোরো ধান

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোরে কালবৈশাখি ঝড়-বৃষ্টিতে বিলের পাকা-আধাপাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। অপরদিকে বৃষ্টিতে আলুর জমিতে রোপণকৃত ধানের উপকার হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। ফলে একদিকে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে বিলের জমির ধান। ফলে বিলপাড়ের কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। অন্যদিকে সদ্য রোপণকৃত জমিতে রহমতের বৃষ্টি পেয়ে সন্তুষ্ট কৃষকরা।

জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়লেও সময়ের সাথে সাথে ঝড় শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ৮টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলে ঝড়বৃষ্টি। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকে। ১২টা ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের দিকে আকাশে প্রচুর মেঘের গর্জন শুরু হয়। তারপরেই ঝড় বইতে শুরু করে। ঝড়ের সাথে বৃষ্টি নামাও শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে এমন আবহাওয়া। এতে বিলের পাকা-আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়ে। অবশ্য পরদিন রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বৈরী আবহাওয়া ছিল না। সারা দিন নুয়ে পড়া ধানগাছ টেনে তুলে একটার সাথে আরেকটা বাঁধতে দেখা যায়।

বিলপাড়ের কৃষক এন্তাজ জানান, প্রায় দুই বিঘা বিলের নিচু জমিতে ধান রোপণ করা ছিল। ১২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে কাটা হতো। কিন্তু গত শনিবারের রাতের ঝড়বৃষ্টিতে জমির পুরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কেবল পাক ধরেছে। অনেকে পড়ে থাকা ধানগাছ তোলার চেষ্টা করছেন। এখন ধান পাকতে কয়েকদিন দেরি হবে। কারণ পড়ে থাকা ধানে রোদের তাপ লাগবে কম। এ জন্য পাকতে দেরি হবে। পাকলেও কাটতে শ্রমিক লাগবে বেশি। আবার পড়ে থাকা ধান কাটতে চায় না শ্রমিকরা। এ ছাড়াও বিঘায় দু-তিন মণ ফলন কম হবে।

ফারক নামের একজন কৃষক জানান, ২২ কাঠা জমির পুরো ধান শুয়ে পড়েছে। শুধু আমার না সবার ধান শুয়ে গেছে। শাকির নামের আরেক কৃষক জানান, বিলের নিচু জমির ধানগাছে পাক ধরেনি। বিলের ওপরের জমির ধান পেকে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাটা হবে। নিচের কাঁচা-আধাপাকা ধান পড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকের ক্ষতি হবে। তবে ওপরের পাকা ধানে তেমন ক্ষতি হবে না।

মনির নামের বিল পাড়ের কৃষক জানান, বিলের ওপরের ১৬ কাঠা জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যে কাটা হবে। ঝড়বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে ধানগাছ। তবে তেমন ক্ষতি হবে না।

জানা গেছে, উপজেলায় দুই ভাগে ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ হয়ে থাকে। বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়ে থাকে। আর আলু তোলার পর আরেক দফা ইরি, বোরো ও আউশ ধানের চাষ হয়ে থাকে। উপজেলার চান্দুড়িয়া ব্রিজ ঘাট হয়ে তানোর পৌরসভা দিয়ে কামারগাঁ ইউপি এলাকার চৌবাড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত বিলের জমিতে চাষ হয়েছে বোরো ধানের। বিলের জমিতে কম বেশি একসাথে জমি রোপণ ও কাটা হয়। তবে বিলের একেবারে নিচু এলাকার জমি রোপণে বিলম্ব হয়। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই নিচু জমির ধানে ক্ষতি হয় বেশি। বিলের জমির ধান বৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে পড়ে গেলেও আলুর জমির রোপণকৃত বোরো, আউশ ধানগাছে বৈশাখের ঝড়-বৃষ্টি কৃষকের আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কারো কোনো হাত নেই। আলুর জমির জন্য বৃষ্টি কৃষকের আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। আর বিলের পাকা ধান বা বিলের উপরি ভাগের জমির ধানগাছ তেমনভাবে পড়েনি। তবে নিচের কিছু ধান পড়েছে। এতে খুব একটা ক্ষতি হবে না। যাদের ধান কাটার মতো অবস্থা হয়ে আছে তারা যেন ধান কেটে নেয়। যাদের ধানগাছ পড়ে গেছে ওসব গাছ তুলে দিতে পারলে ভালো হয়। তাহলে রোদ লাগবে সব গাছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পেকে যাবে বলে জানান তিনি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!