চট্টগ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের খ্যাতিমান বলীরা (কুস্তিগীর) শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবেন লালদীঘি মাঠে। এ খেলায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন শতাধিক বলী।
এদিকে ১১৭তম এই আসরকে ঘিরে জমে উঠেছে তিন দিনের বৈশাখী মেলা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশ এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বলীখেলা চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় লোকজ ক্রীড়া আয়োজন। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য এখন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি নগরবাসীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে মেলা ও আয়োজনের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন মেলা ভোরের মধ্যেই শেষ করা হয়। আয়োজকরা জানান, বিষয়টি মাথায় রেখেই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবসমাজকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এ বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের লালদীঘি মোড়কে ‘জব্বারের মোড়’ হিসেবে নামকরণের দাবি উঠেছে এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করে এলাকাটিকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল জানান, জব্বারের বলীখেলাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলীখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।
এবারের বলীখেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বলীরা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, এমনকি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও শক্তিশালী কুস্তিগীররা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ৮০ থেকে ১০০ বলী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ভাষায় কুস্তিগীরদের ‘বলী’ বলা হয়, আর এই প্রতিযোগিতাকে বলা হয় ‘বলীখেলা’। এটি মূলত গ্রামীণ কুস্তির একটি ঐতিহ্যবাহী রূপ, যেখানে শক্তি, কৌশল ও সহনশীলতার সমন্বয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাটির তৈরি বিশেষ বৃত্তাকার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীরা মুখোমুখি হন এবং নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেষ্টা করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন