সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ৯৫ হেক্টর বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে এক রাতেই পাকা ধান ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন নিম্নআয়ের কৃষকেরা, যাদের পুরো মৌসুমের বিনিয়োগই পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বৃহত্তম চাউলধনী হাওর এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও শুধু ধানের শীষ দেখা যাচ্ছে। পানির উচ্চতা বেশি থাকায় অনেক কৃষক জমিতে নামতে পারছেন না।
তবে জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে বাড়িতে নিতে দেখা গেছে।
এদিকে ধান কাটা গেলেও নতুন সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ধান মাড়াই ও শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাড়ির উঠান ও চাটাইয়ের ওপর ভেজা ধানের স্তূপ জমে আছে। এতে পুরো কৃষক সমাজে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল।
এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৯৫ হেক্টর জমির ধান আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দৌলতপুর ইউনিয়নের মীরগাঁও গ্রামের কৃষক নিজাদ উদ্দিন বলেন, এক রাতেই আমার ৬ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এত ক্ষতি হতো না।
পৌরসভার ইলামেরগাঁও গ্রামের কৃষক রোশন আলী বলেন, আমার ১০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরে তুলতে পারিনি এক মুঠো ধানও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, কৃষকদের আগেই দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধান কৃষকেরা কষ্ট করে কাটছেন। পানি নেমে গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন