× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

‘সোনিয়ার ছাড়পত্র বাণিজ্য, টাকা না দিলেই চোখ রাঙানি’

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে টাকার বিনিময়ে রোগীর ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আয়া সোনিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতি ছাড়পত্র বাবদ ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। ওয়ার্ড ইনচার্জ নিলিমা খাতুনের ইন্ধনে সোনিয়া নিয়মবহির্ভূত এই বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে শিশু ওয়ার্ডে ছাড়পত্র বাণিজ্যের সময় সোনিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সোনিয়ার রোগী জিম্মি বাণিজ্যের কারণে দেশের অন্যতম এই হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার রহমতপুর গ্রামের আখিতারাকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড (৮ নম্বর) এ ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকেই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কর্মীরা নানা অজুহাতে টাকা আদায় শুরু করেন। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলে শনিবার (২ মে) রোগীকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসক।

তবে ছাড়পত্র নিতে গেলে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনেরা। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ডে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবী সোনিয়া ৫০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে আপত্তি জানালে রোগীর স্বজনদের ওপর ক্ষুব্ধ আচরণ করেন তিনি।

রোগীর মা পারভিনা খাতুন জানান, তার মেয়েকে ৮ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে আনার পর ‘ওয়াশ’ করার বাবদ ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে নাকে নল লাগাতেও ৩০০ টাকার কম নিতে চাননি দায়িত্বরতরা।

বাগডাঙ্গা গ্রামের মহব্বত হোসেন জানান, তার রোগীর নাকে নল লাগানোর পর সোনিয়া ৩০০ টাকা দাবি করেন। ১০০ টাকা দিতে চাইলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। পারভিনা খাতুন ও মহব্বত হোসেনের মতো আরও অনেকেই একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া কোনো রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। ওয়ার্ড ইনচার্জদের ইন্ধনে কৌশলে ছাড়পত্র বাবদ প্রতি রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোগীর কয়েকজন স্বজন জানান, ছাড়পত্র দেওয়ার সময় আয়া সোনিয়া খাতুন সরাসরি টাকা নেন। টাকা না দিলে রোগী ও স্বজনদের গালমন্দ শুনতে হয়। এই অনিয়মে ওয়ার্ড ইনচার্জের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ। প্রতিদিন ছাড়পত্রের নামে আদায় করা টাকা ওয়ার্ড ইনচার্জ, দায়িত্বরত সেবিকা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি হয় বলেও দাবি তাদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তারা কতিপয় সেবিকা ও কর্মচারীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন। অনিয়ম জেনেও বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে ছাড়পত্র পেতে দেরি, সিরিয়াল জটিলতা ও চোখ রাঙানির শিকার হতে হয়। রোগী ও স্বজনদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে, স্বেচ্ছাসেবী আয়া সোনিয়ার আচরণ অত্যন্ত খারাপ। ছাড়পত্র দেওয়ার আগে তিনি দম্ভভরে বলেন, ‘টাকা দিন, তারপর ছাড়পত্র পাবেন।’

ফলে বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হচ্ছে। ছাড়পত্র বাণিজ্য ছাড়াও তিনি দায়িত্ব পালনের সময় নানা অজুহাতে টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের জমাদ্দার সর্দার ইমরান হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি ওয়ার্ড ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, স্বেচ্ছাসেবী আয়া সোনিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ছাড়পত্র বাণিজ্যের কারণে তাকে শিশু ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও রোগী জিম্মি করে অর্থ আদায়ের বিষয়টি দুঃখজনক। রোগীর ছাড়পত্র নিতে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!