× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৬:১০ এএম

প্রেমের বিয়ের ১৫ দিন পর যুবকের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৬:১০ এএম

রুবায়েত হাসান রাকিব

রুবায়েত হাসান রাকিব

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় প্রেমের বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় রুবায়েত হাসান রাকিব (২৩) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে গেছেন।

সোমবার (৪ মে) ভোররাতে ফুলবাড়িয়া পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাকিব ওই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান রাকিব। ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেলে পাশের কক্ষে থাকা তার ভাই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর আগে রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন, যেখানে কয়েকজনকে দায়ী করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন

আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য প্রথমে দায়ী থাকবে রীথির বাবা মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম (মাসুদ), রীথির ছোট ভাই রিফাত এবং তার মামা। এছাড়া রীথির পুরো পরিবার আমার এই মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। আমি আত্মহত্যা করিনি—আমাকে হত্যা করা হয়েছে। এই কাজটি করেছে রীথি এবং তার পরিবার।

আমার আন্টি সীমা, আমার আঙ্কেল অ্যাডভোকেট রুমন হোসাইন এবং আমার বড় ভাই সফির উদ্দিন—আপনারা তো সবকিছুই জানতেন। আপনারা রীথিকে যথেষ্ট বুঝিয়েছেন যে আমি বেকার, আমার কোনো চাকরি নেই—সবকিছুই তাকে বলা হয়েছিল। রীথি সব বুঝে-শুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। অথচ এখন সে বলছে, রাগের মাথায় নাকি আমাকে বিয়ে করেছে। সে বলছে, আমি নাকি তার সুযোগ নিয়েছি! বিয়ের আগে এত কিছু করার পর এখন এমন কথা বলছে! এখন আবার বলছে, আমার সরকারি চাকরি না হলে সে আমার সঙ্গে থাকবে না। এটা কি কোনো ছেলে-খেলা?

এই সবকিছু আমি এখন মেনে নিতে পারছি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে এটাকে আত্মহত্যা বলা ভুল হবে—আমাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার জন্য দায়ী রীথি এবং তার পরিবার। আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য রীথির পুরো পরিবার দায়ী থাকবে। আপনারা সবাই আমার এই হত্যার সঠিক বিচার করবেন।

প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, আমার পরিবার যেন এর সঠিক বিচার পায়। আর রীথি, তোমাকে আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই—তুমি এখন যা করছ, সবই তোমার পরিবারের চাপে। আমি জানি, তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো। আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি, রীথি। হয়তো এখন তুমি পরিবারের চাপে আমাকে ভুল বুঝছো। আমি তোমাকে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি—তাই তুমি আমাকে এভাবে শেষ করে দিলে। আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম, সেই কথা আমি রাখলাম। তুমি হয়তো এখন আমাকে বুঝতে পারছ না, কিন্তু যখন আমি আর এই পৃথিবীতে থাকব না, তখন হয়তো বুঝবে—তবে তখন আর কোনো লাভ হবে না।

আব্বু-আম্মু, আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। তোমরা ভালো থেকো, নিজেদের খেয়াল রেখো। তোমাদের ছেলেকে তারা বাঁচতে দিল না—আমাকে শেষ করে দিয়েছে। অথচ আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, সুন্দর একটি সংসার করতে চেয়েছিলাম, রীথিকে অনেক ভালোবাসতে চেয়েছিলাম।

দুনিয়ার মানুষের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন—এটা কি আমার অপরাধ ছিল?

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!